advertisement

শিশু মাহফুজ অপহরণ-হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

জুলাই ০৭, ২০২৬, ১১:৩৬

শিশু মাহফুজ অপহরণ-হত্যায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, দুইজনের যাবজ্জীবন

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানায় ১৫ বছর আগে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণের পর হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।


মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

featured banner


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, জামাল শেখ, শামীম শেখ ও রঞ্জু শেখ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাহমুদা খানম উষা ও বিল্লাল শেখ। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর নাজির মো. সুমন হাওলাদার বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।


রায়ে আদালত বলেন, এটি কেবল একটি হত্যা মামলা নয়; বরং মানুষের রূপধারী কিছু অপরাধীর হিংস্রতার শিকার এক নিষ্পাপ শিশুর মর্মান্তিক পরিণতির দলিল।


আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, শবে বরাতের পবিত্র রাতে নামাজ পড়তে বের হওয়া আট বছরের মাহফুজকে অপহরণ করে মুক্তিপণের লোভে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখা হয়। পরে অর্থ না পেয়ে নির্মমভাবে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ মেহগনি বাগানে ফেলে দেওয়া হয়।


আদালত আরও বলেন, এ ধরনের নৃশংস ও পাশবিক অপরাধ সমাজে আর কেউ যাতে করার সাহস না পায়, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।


মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের বাড়ি থেকে ভাটিয়াপাড়া রেলওয়ে জামে মসজিদে যাওয়ার পথে আট বছরের শিশু মাহফুজকে অপহরণ করে আসামিরা। পরে তারা মুক্তিপণ দাবি করে। দাবি অনুযায়ী অর্থ না পেয়ে প্রায় দেড় মাস আটকে রাখার পর ২০১২ সালের ২০ আগস্ট রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মাহমুদা খানম উষার বাড়িতে শিশুটিকে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে লাশ ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ির পাশের একটি মেহগনি বাগানে ফেলে রাখা হয়।


মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ইতালি প্রবাসী ছিলেন এবং আসামিদের সঙ্গে তাদের পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার পর ২০১২ সালের ৬ জুলাই মাহফুজের মা স্বপ্না বেগম কাশিয়ানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নিজাম শিকদার আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।


মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন শাখার সিদ্ধান্তে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।


বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে ২৫ জনের মধ্যে ২৩ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে আটজন সাফাই সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত মঙ্গলবার তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।


এর আগে একই মামলায় দুই নাবালক আসামি মেহেদী ও সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর ১০ বছর করে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছিল।

google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
featured banner
সম্পর্কিত খবর
জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

জুলাইয়ের হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি ইকবাল বাহারসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি মুলতবি

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল শুনানি মুলতবি

৩০ লাখ টাকা পেল কারখানায় হাত হারানো সেই নাঈম

৩০ লাখ টাকা পেল কারখানায় হাত হারানো সেই নাঈম

সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজন খালাস

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজন খালাস