advertisement

অশ্লীলতা মানব জীবনে সর্বদা লাঞ্ছনা বয়ে আনে

নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক

জুলাই ০৮, ২০২৬, ০১:৫২

অশ্লীলতা মানব জীবনে সর্বদা লাঞ্ছনা বয়ে আনে

ইসলাম মানবজাতিকে চারিত্রিক পবিত্রতা, শালীনতা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। ঈমানের দাবি হলো মানুষের মুখের ভাষা, আচরণ, পোশাক, দৃষ্টি, চিন্তা-সবকিছুর মধ্যেই যেন শালীনতা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে।


তাই ইসলাম শুধু অশ্লীল কাজকেই হারাম করেনি; বরং অশ্লীলতার প্রচার, প্রসার, স্বাভাবিকীকরণ এবং তাতে সহযোগিতা করাকেও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। কারণ অশ্লীলতা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় এবং তা শেষ পর্যন্ত ব্যক্তির জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হয়।

featured banner

এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয়ই যারা এটা পছন্দ করে যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।


' (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯)

পবিত্র কোরআনের এই আয়াত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখানে শুধু অশ্লীল কাজের কথা বলা হয়নি; বরং অশ্লীলতার 'প্রচার ও প্রসার' কামনা করাকেও ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ যদি নিজে অশ্লীলতায় লিপ্ত না-ও হয়, কিন্তু এমন পরিবেশ তৈরি করে, যাতে অশ্লীলতা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক বিষয় হয়ে ওঠে, তাহলেও সেও এ সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে (নাউজুবিল্লাহ!)।


শয়তান মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অশ্লীলতার স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া অবলম্বন করে।


এটা তার অন্যতম বড় কৌশল। যে কৌশলের ব্যাপারে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেছেন, 'হে মুমিনরা, তোমরা শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ কোরো না। আর যে শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই সে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেবে।' (সুরা : নুর, আয়াত : ২১)

বোঝা গেল, মানব সমাজে যারা অশ্লীলতা স্বাভাবিকীকরণে কাজ করে, তারা মূলত শয়তানের ফাঁদে পা দিয়েছে। বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই কিছু অশ্লীল শব্দ, বাক্য বা স্লোগান 'ট্রেন্ড' হয়ে যায়।


অসংখ্য মানুষ না বুঝেই সেগুলো 'মিম' বা 'ট্রেন্ড' মনে করে শেয়ার করে, মন্তব্যে ব্যবহার করে কিংবা ভিডিও বানিয়ে আরো ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য কোনো বিষয় জনপ্রিয় হওয়াই তার বৈধতার প্রমাণ নয়। মুমিন কখনো এসব কাজে লিপ্ত হতে পারে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'মুমিন কখনো দোষারোপকারী ও নিন্দাকারী হতে পারে না, অভিশাপকারী হতে পারে না, অশ্লীল কাজ করে না এবং কটুভাষীও হয় না।' (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭৭)

অনেক ক্ষেত্রে মানুষ মতবিরোধ ও বিতর্কে জেতার জন্য অশ্লীল পথ অবলম্বন করে বসে। অথচ ইসলাম মতবিরোধ ও বিতর্কের ক্ষেত্রেও শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, 'তুমি তোমার রবের পথে হিকমত ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সঙ্গে বিতর্ক করো।' (সুরা : নাহল, আয়াত : ১২৫)


অতএব, প্রতিপক্ষ ভুল করলেও তার জবাবে অশ্লীল ভাষা, কুরুচিপূর্ণ উপহাস বা নোংরা শব্দ ব্যবহার করা ইসলামের শিক্ষা নয়। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্যও শালীনতা বিসর্জন দেওয়া বৈধ নয়। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অশ্লীলতা ছড়ানো হয় ইন্টারনেটে। অশ্লীল একটি পোস্ট, মন্তব্য বা শেয়ার মুহূর্তের মধ্যে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তাই আমাদের প্রত্যেকের চিন্তা করা উচিত আমার একটি লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ইত্যাদি মানুষের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার ঘটাচ্ছে কি না? আমি কি নিজের অজান্তেই শয়তানের কোনো পরিকল্পনার অংশ হয়ে যাচ্ছি?


রাসুল (সা.) বলেন, 'আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো খারাপ নিয়মের প্রচলন ঘটাবে, তার জন্য তার গুনাহ তো রয়েছেই, অন্যদিকে সে অনুসারে আমলকারীদের গুনাহও তার জন্য রয়েছে। অবশ্য এর কারণে তাদের গুনাহ বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।' (নাসায়ি, হাদিস : ২৫৫৪)


সুতরাং অশ্লীল শব্দ, অশ্লীল কৌতুক, অশালীন ট্রেন্ড কিংবা নোংরা সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার আগে একজন মুমিনের মনে রাখা উচিত কঠিন কিয়ামতের দিনে প্রতিটি শেয়ার, প্রতিটি মন্তব্য এবং প্রতিটি শব্দেরও হিসাব দিতে হবে। মহান আল্লাহ সবাইকে এসব থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
featured banner
সম্পর্কিত খবর
জাদুবিদ্যার ইতিহাস, বাস্তবতা ও একজন মুমিনের করণীয়

জাদুবিদ্যার ইতিহাস, বাস্তবতা ও একজন মুমিনের করণীয়

মানুষের যেকোনো অনিষ্ট থেকে বাঁচার পরীক্ষিত আমল

মানুষের যেকোনো অনিষ্ট থেকে বাঁচার পরীক্ষিত আমল

উপকারী জ্ঞান লাভে মহানবী (সা.)-এর শিখানো দোয়া

উপকারী জ্ঞান লাভে মহানবী (সা.)-এর শিখানো দোয়া

এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন

এক মিনিটে আপনি যেসব মহামূল্যবান আমল করতে পারেন

জাহেলি যুগে সামাজিক অবক্ষয়ের কারণসমূহ

জাহেলি যুগে সামাজিক অবক্ষয়ের কারণসমূহ